শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সুপেয় পানি শোধনাগার ধ্বংস

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ পানিশোধন ও সরবরাহ কেন্দ্র মার্কিন বিমান হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস।

মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সুপেয় পানি শোধনাগার ধ্বংস
ছবি: আল জাজিরা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ পানিশোধন ও সরবরাহ কেন্দ্র মার্কিন বিমান হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১০ জুন) পরিচালিত ওই হামলায় এলাকার দুটি বড় পানির ট্যাংক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে স্থানীয় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেশন টিম হরমোজগান প্রদেশের বেমানি গ্রামের দুটি ছোট পানি সংরক্ষণাগারের অবস্থান এবং হামলার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি শনাক্ত করেছে। এর আগে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও বেমানি এলাকায় অবস্থিত দুটি পানির ট্যাংকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর প্রকাশ করেছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানিশোধনাগারটি ধ্বংস হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দা সরাসরি এর প্রভাব ভোগ করছেন।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছে। এসব নমুনা পরীক্ষা করেছে যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওপেন সোর্স মিউনেশনস পোর্টাল’-এর বিশেষজ্ঞরা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ২৫০ পাউন্ড ওজনের অত্যাধুনিক ‘জিবিইউ-৩৯’ গাইডেড বোমার অংশ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বোমাটির আঘাতের ধরন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ভিডিওচিত্রে দেখা ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশনের বিধানেও এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই আন্তর্জাতিক চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ উদ্দেশ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অতিরিক্ত বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে মার্কিন মেরিন কর্পস, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে অত্যাধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইরানের সামরিক নজরদারি কেন্দ্র, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।

সেন্টকম আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধারাবাহিক ও ‘উসকানিহীন’ কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই এই বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি