ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতার এক ব্যস্ত দিন পার করে মার্কিন প্রতিনিধিদল পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিনভর দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন।
উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক
সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় বসেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে অত্যন্ত ‘উষ্ণ ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, "বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।"
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুই নেতার এই বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সেখানে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
নাটকীয় প্রস্থান
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইসলামাবাদে একটি মোটর শোভাযাত্রার ছবি প্রকাশ করে আব্বাস আরাঘচির ঢাকা ত্যাগের ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমনের ঠিক আগেই তার এই প্রস্থান রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, শনিবারই পাকিস্তানে পৌঁছাবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তেহরানের বক্তব্য
আব্বাস আরাঘচির এই সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত আঞ্চলিক ত্রিদেশীয় সফরের অংশ ছিল। এছাড়া মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, "আঞ্চলিক ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।"
একদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদায় এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর প্রতিনিধিদের আগমন—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক পাড়া এখন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।