শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মধ্যপ্রাচ্যে হয়রানি ও আটকের শিকার সাংবাদিকরা

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সেন্সরশিপ ও কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়ছেন সাংবাদিকরা। সরকারি প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী—সবার পক্ষ থেকেই তথ্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক জরিপে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলে সংবাদ প্রচারের ওপর সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে হয়রানি ও আটকের শিকার সাংবাদিকরা
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সেন্সরশিপ ও কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়ছেন সাংবাদিকরা। সরকারি প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী—সবার পক্ষ থেকেই তথ্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক জরিপে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলে সংবাদ প্রচারের ওপর সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

এএফপির ব্যুরোপ্রধানদের তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ এমনকি আটকে রাখার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্পর্শকাতর ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এসব দেশ চায় না ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক অবস্থান বা আকাশে তা ভূপাতিত করার দৃশ্য জনসমক্ষে আসুক, যা তাদের নিরাপত্তা কৌশলকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারি ভাষ্যের বাইরে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের বাইরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। তেহরানে অফিস থাকা সত্ত্বেও এএফপির প্রতিনিধিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের সেই স্কুলে যেতে পারেননি, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি প্রাণহানির দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানে ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের তোলা ভিডিও বা ছবিও বাইরে আসতে পারছে না। অথচ ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন; সেখানে সাংবাদিকরা যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তেমনি সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরতে পারতেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিশ্ববাসীর কাছে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র পৌঁছানোর পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।