শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে একের পর পর এক হামলা ইরানের

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় শক্তিশালী হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে একের পর পর এক হামলা ইরানের
ছবিঃ সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় শক্তিশালী হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

শনিবার ইরানি নৌবাহিনী ওই অঞ্চলের মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অ্যাডমিরাল তাংসিরি জানিয়েছেন, আবুধাবির আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে তাদের নৌবাহিনী কয়েক দফায় আক্রমণ চালিয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট রাডার ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি মজুত রাখার বিশালাকার ট্যাঙ্কগুলো। এই হামলার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে তেহরান।

এদিকে, ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমিরাতের মাটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সকল গোপন আস্তানা এখন থেকে ইরানের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান আমিরাতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত মার্কিন শত্রুঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, বন্দর এবং মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থলগুলোতে আক্রমণ চালানোর পূর্ণ অধিকার রাখে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইআরজিসি আমিরাতের জনবহুল এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিভিন্ন বন্দর, ডক এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের এই অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।