গত তিন বছর ধরে চলছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলো ইউক্রেনকে প্রকাশ্যে সমর্থন এবং অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে। নানা ঘটনাপ্রবাহের ভিতর দিয়ে এখনো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা এসব সমর্থন এবং বিরোধিতা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দেশটির বিশাল ভূখণ্ড নিজেদের দখলে রেখেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন ও পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে ইউক্রেনের পক্ষে নেপথ্যের শক্তি হিসেবে ভূমিকা নিয়েছে, একইভাবে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নীরব খেলোয়ার হয়ে উঠেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে, রুশ সরকার এই সহায়তার কথা স্বীকারও করেছে। মার্কিন-রুশ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বেপারে প্রশ্ন করা হলে, রাশিয়া সরাসরি জানিয়ে দেয়- যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে মস্কোও ইরানকে তথ্য সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে—এমন প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি সাম্প্রতিক এক বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। তবে ওয়াশিংটন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ হলে, রাশিয়াও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে দেওয়া সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্য ও সহায়তা থেকে সরে আসবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ‘বিনিময়মূলক’ শর্তে আগ্রহ দেখায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব বাস্তবতার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। কারণ ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ ও গুরুত্ব অনেক বেশি, যেখানে ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
এদিকে, পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য ও সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার মাধ্যমে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে মস্কো। রাশিয়ার দাবি, তারা সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে সক্রিয়ভাবে তথ্য সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত একে অপরের সঙ্গে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক প্রস্তাব আসলে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির অংশ, যেখানে প্রতিটি শক্তিধর দেশ নিজস্ব কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে স্পষ্ট—ইউক্রেন ও ইরান ইস্যু এখন আর আলাদা নয়; বরং বিশ্ব রাজনীতির একই জটিল সমীকরণের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।