শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুশৃঙ্খল এবং আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান নেতৃত্বের সর্বপ্রধান লক্ষ্য বলে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, বিদ্যাচর্চা, ক্রীড়া, কৃষ্টি ও প্রযুক্তির সুষম সমন্বয়ই দেশের আগামীর উন্নতির মূল চাবিকাঠি।

মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সুশৃঙ্খল এবং আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান নেতৃত্বের সর্বপ্রধান লক্ষ্য বলে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তার মতে, বিদ্যাচর্চা, ক্রীড়া, কৃষ্টি ও প্রযুক্তির সুষম সমন্বয়ই দেশের আগামীর উন্নতির মূল চাবিকাঠি। এই চিন্তাধারা থেকেই খেলাধুলাকে কেবল আনন্দ বা শরীরচর্চার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ হিসেবে তৈরি করতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সামাজিক মাধ্যম যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় দেশের শাসনপ্রধান এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, একটি মূল্যবোধসম্পন্ন ও কর্মক্ষম সমাজ গঠনে ক্রীড়া চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশাসনিক নীতিতে খেলাধুলাকে দক্ষ নাগরিক তৈরি, সামাজিকভাবে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন এবং বিশ্বমঞ্চে স্বদেশের মান অক্ষুণ্ন রাখার হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই প্রান্তিক অঞ্চল থেকে নতুন মুখ খুঁজে বের করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছুদিন আগে উত্তরাঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গন থেকে সুচনা হওয়া অন্বেষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আটটি আলাদা প্রতিযোগিতার ধাপ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাজধানী প্রাঙ্গণে এই বৃহৎ প্রকল্পের শেষ পর্ব ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

সরকারপ্রধান ব্যক্ত করেন, তৃণমূলের সুপ্ত দক্ষতা বিকাশে এই প্রক্রিয়া একটি সুদৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখবে। জাতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগের পেছনে যাদের শ্রম রয়েছে তাদের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা প্রকাশ করেন তিনি।

তার মতে, তরুণ সমাজের ভেতরে থাকা প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলা এবং চরিত্র গঠনে ক্রীড়া চর্চার স্থান অতুলনীয়। এটি একজন মানুষকে নিয়মানুবর্তিতা, একাগ্রতা, নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বদেশপ্রেম শিখতে সাহায্য করে।

প্রশাসনিক পর্যায়ে এই উদ্যোগকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ছোট বয়স থেকেই তরুণদের প্রতিভাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার একটি স্থায়ী মাধ্যম তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আগামী দিনে বৈশ্বিক স্তরে প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

ক্রীড়া ক্ষেত্রকে প্রযুক্তি নির্ভর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে তিনি জানান, উদীয়মান খেলোয়াড়দের সুদীর্ঘ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কেবল যোগ্যতাই শেষ কথা হবে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, পরবর্তী আসরকে আরও বড় পরিসরে রূপ দিতে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করে মোট আয়োজনের সংখ্যা দশে উন্নীত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বেশি সংখ্যক কিশোর-কিশোরীকে যুক্ত করতে বয়সের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

বক্তব্যের ইতি টেনে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশীয় অঙ্গন থেকে উঠে আসা এই খুদে প্রতিভারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সীমানায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। সবশেষে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, নির্দেশক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং সমাপনী কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন।