বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মহাকাশের গভীরে চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

মহাকাশের বিশাল পরিমণ্ডলে প্রাণের অস্তিত্ব ও সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

মহাকাশের গভীরে চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশের বিশাল পরিমণ্ডলে প্রাণের অস্তিত্ব ও সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আমাদের গ্যালাক্সি বা মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ঘন আণবিক মেঘের মধ্যে চিনির অণুর সন্ধান মিলেছে। মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে (আইএসএম) সংঘটিত এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ কীভাবে ঘটেছিল সে সংক্রান্ত ধারণাকে আরও মজবুত করবে।

জ্যোতির্পদার্থবিদ ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল মহাকাশে ‘এরিথ্রুলোজ’ নামের এই বিশেষ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। এটি মূলত চার-কার্বনবিশিষ্ট এক ধরনের জটিল চিনি। এর আগেও বিভিন্ন সময় পৃথিবীতে আছড়ে পড়া উল্কাপিণ্ডে রাইবোজ ও গ্লুকোজের মতো উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেলেও, মহাশূন্যের গভীর স্তরে এই ধরনের জটিল শর্করার উপস্থিতি এবারই প্রথম ধরা পড়ল।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই এরিথ্রুলোজ চিনিটি টিএনএ (TNA) গঠনের প্রধান ও মৌলিক ভিত্তি। গবেষকদের ধারণা, পৃথিবীতে বর্তমান জীবন ধারণের মূল চালিকাশক্তি আরএনএ (RNA) এবং ডিএনএ (DNA) বিবর্তিত হওয়ার পূর্ববর্তী আদি ধাপ হলো এই টিএনএ। ফলে এই অণুর আবিষ্কার সরাসরি ইঙ্গিত করে যে, পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপাদানগুলো হয়তো পৃথিবীর নিজস্ব নয়, বরং মহাকাশ থেকেই এসে পড়েছিল। গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যে, সেখানে তুলনামূলক সরল তিন-কার্বনের কোনো চিনি না পেয়ে সরাসরি চার-কার্বনের চিনির আধিক্য দেখা গেছে, যা মহাকাশ রসায়নের প্রচলিত ধারণাকে বেশ চমকে দিয়েছে।

মহাবিশ্বের এই মিষ্টি উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করতে স্পেনের ৪০ মিটার ব্যাসের ‘ইয়েবেস’ এবং ৩০ মিটার ব্যাসের ‘আইআরএএম’ নামক দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ৩৮০ থেকে ৪১০ কোটি বছর আগে যখন পৃথিবীতে ঘন ঘন উল্কাপাত হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে আনুমানিক শূন্য দশমিক ৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত এই এরিথ্রুলোজ চিনি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে এসে জমা হয়েছিল।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য কার্লোস ব্রায়োনেস এই আবিষ্কারকে মহাকাশবিজ্ঞানের জন্য একটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে বা নক্ষত্রপুঞ্জে যদি এই ধরনের রাসায়নিক পরিবেশ ও উপাদানের উপস্থিতি থেকে থাকে, তবে সেখানেও পৃথিবীর মতো প্রাণের বিকাশ ঘটার এক বিশাল ও বাস্তব সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।