সীমান্তের উত্তেজনার মাঝেই মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে প্রাণ হারিয়েছে এক শিশু। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম আফনান ওরফে পুতুনি (১২)। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শিশু নিহতের খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা কক্সবাজার–টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল ও তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির ঘটনা চলেছে। এর মধ্যেই ওপার থেকে আসা গুলিতে এক শিশু নিহত হয়। স্থানীয়দের বিক্ষোভের কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, কয়েকদিন ধরেই সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলি রোববার ভোরে থামে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্ক আর নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। আজ বাংলাদেশি এক শিশু নিহত হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গোলাগুলির কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক অবরোধ তুলে নিতে প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে।