ভারতের রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার কারেদা বাজারে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। চোর চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবয়বের একটি মুখোশ মুখে লাগিয়ে এই চুরির ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
অপরাধের এই অদ্ভুত পদ্ধতিটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হওয়ার পর সেই ভিডিওচিত্রটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফত জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে কারেদা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি নামী মোবাইল বিক্রয় কেন্দ্রে একদল চোর হানা দেয়। তারা ওই দোকান থেকে নামী ব্র্যান্ডের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি দামি স্মার্টফোন হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। অপহৃত এই মোবাইল ফোনগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে দোকানের স্বত্বাধিকারী লক্ষ্মণ সেন যথারীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি খুলতে গিয়ে এই চুরির বিষয়টি টের পান। তিনি দেখতে পান, ভেতরের সমস্ত মালামাল মেঝেতে এলোমেলো অবস্থায় ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে এবং বহু দামি স্মার্টফোনের মোড়ক বা বাক্সগুলো শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কারেদা থানার ওসি পূরণমল মীনা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত অকুস্থলে এসে উপস্থিত হন। অপরাধীদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তারা দোকানের অভ্যন্তরীণ ও চারপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ধারণকৃত ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করেন। তখন ভিডিও দেখে স্বয়ং পুলিশ কর্তারাই বিস্মিত হয়ে পড়েন। সেখানে পরিষ্কার দেখা যায়, চোরদের মধ্যে একজন নরেন্দ্র মোদির একটি মুখোশ পরিধান করে অত্যন্ত নিশ্চিন্তে দোকানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান ফোনগুলো ব্যাগে ভরছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই অপরাধী চক্র ওই একই রাতে বীজ গোদাম চৌরাস্তা সংলগ্ন আরও একটি মোবাইল দোকানে চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজেও সেই মোদি মুখোশধারী তরুণকে দোকানের সাটারের তালা ভাঙার জন্য চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে সেখানের তালাটি ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা সফল হতে পারেনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকের এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট মামলা নথিভুক্ত করেছে। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে মুখোশধারী চোরের অপকর্মের স্পষ্ট চিত্র মিলেছে। এই ভিডিও এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীদের আটকে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পুলিশ। এই ব্যতিক্রমী চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এক ধরনের চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।