নরসিংদীর পলাশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে নরসিংদী জেলা বিএনপি, তাঁতীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানান এবং বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন।
ড. আবদুল মঈন খানকে মন্ত্রী করায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মঞ্জুর এলাহী এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা শুভেচ্ছা জানান।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাপ মঞ্জুর, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান সরকার, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির কামাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বশির আহম্মদ মোল্লা, উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি হুরমুজ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন, রায়পুরা পৌর তাঁতীদলের সভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল মিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।
জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. আবদুল মঈন খান। এরপর রাতেই মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শূন্য হয়। সেই পদে দায়িত্ব পান ড. মঈন খান।
মঈন খানের মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই পলাশ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। ঘোড়াশাল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোবাহান ভূঁইয়া স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। পলাশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও দলীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ড. আবদুল মঈন খান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। অতীতেও তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সময়ে পলাশসহ নরসিংদীর অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নতুন করে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ায় এ অঞ্চলের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তারা।
পলাশ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ড. আবদুল মঈন খান মন্ত্রী হওয়াতে পলাশবাসীর আশার প্রতিফলন ঘটেছে। ওনার মতো একজন সুদক্ষ, সৎ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মানুষের হাতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিরাপদ। ওনার হাত ধরে এ দেশের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব।
ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা বলেন, মঈন খানের মতো একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এর হাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাওয়া মানে নরসিংদী সহ সারাদেশের রাস্তাঘাট ও জীবনমানের উন্নয়ন হবে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে তিনবার মন্ত্রী ছিলেন। এবারসহ ৫ বারের এমপি ও চতুর্থ বারের মতো মন্ত্রীর দায়িত্বের তৌফিক হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মঈন খান বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেমন রাজপথের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে সকল আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ঠিক একইভাবে বর্তমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছায়াসঙ্গী হয়ে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে বিশ্বাস করি।
ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারণী নেতা এবং বর্তমানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরবর্তীতে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার এক নম্বর বা ক্রমিক ১-এর মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির সাবেক রাজনীতিবিদ ও খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের ছেলে। বাবার হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। তবে রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণাতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল থেকে মেট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগে পড়াশোনা করেন তিনি। সেখানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড. মঈন খান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স ও টেকনোলজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং প্রযুক্তি বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।