অনৈতিক অর্থ আদায় ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি মন্তব্য করেন, প্রচণ্ড পরিশ্রমে অর্জিত সামান্য উপার্জনের বড় অংশ যখন বলপ্রয়োগ করে কেড়ে নেওয়া হয়, তখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হয় না, বরং একটি প্রান্তিক পরিবারের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদাও মুখ থুবড়ে পড়ে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এই ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
নিজের পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, সারাবেলা রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়ে একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ হয়তো পাঁচশত টাকা রোজগার করেন। এই সামান্য অর্থেই জড়িয়ে থাকে তাঁর সন্তানের খাদ্য, লেখাপড়ার উপকরণ কিংবা বয়োবৃদ্ধ অভিভাবকের ওষুধের ব্যবস্থা। সেই সম্বল থেকে যদি অর্ধেকের বেশি চাঁদা হিসেবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তবে পরিবারটির দৈনন্দিন প্রয়োজনে টান পড়ে। তুলনামূলকভাবে সচ্ছল মানুষের চোখে এই অঙ্ক সামান্য মনে হলেও একজন মেহনতি মানুষের কাছে এটি অপরিসীম মূল্যবান।
অর্থ আদায়ের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, পথঘাটে ক্ষুদ্র বিপণি চালু করা, ব্যবসা পরিচালনা, যানবাহন চালানো থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বাসস্থান নির্মাণ—সবখানেই অবৈধ চাঁদার বিস্তার ঘটেছে। অবৈধভাবে সংগৃহীত এই অর্থকে পুঁজি করে যখন রাজনৈতিক প্রতিপত্তি প্রদর্শন করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অপমান বহুগুণ বেড়ে যায়। এই লুটপাটের অর্থ কেবল তৃণমূল পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে ধাপে ধাপে প্রভাবশালী মহলেও পৌঁছে যায়। চাঁদাবাজি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং মেহনতি মানুষের রক্ত পানি করা শ্রম, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা এবং নাগরিক অধিকারকে নিঃশেষ করে দেয়।
এমন বাস্তবতায় নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়া অর্থলোভী চক্রের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে। একজন শ্রমজীবী মানুষ যেদিন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া তাঁর ঘামঝরা উপার্জন সম্পূর্ণ নিরাপদে নিজ পরিবারের কাছে নিয়ে যেতে পারবেন, মূলত সেদিনই রাষ্ট্র সত্যিকারের মুক্তির স্বাদ পাবে।