মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, এই বাহিনী মূলত অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গঠিত হয়েছিল।
সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ না নিয়ে বরং দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ বহির্ভূত অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির নিধনযজ্ঞে লিপ্ত ছিল। এ কারণে মুজিব বাহিনীকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই প্রজন্ম জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নবায়ন ঘটিয়েছে। এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে কোনো বৈরিতা বা সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধেরই একটি অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিকতা। যেখানে মুক্তিযুদ্ধে সাম্য ও মানবিক মর্যাদার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে এই গণ-অভ্যুত্থানে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন ঐতিহাসিক ঘটনা বড় বা কোনটি ছোট, তা নিয়ে বিতর্ক করা সম্পূর্ণ অনর্থক। জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড় কোনো ঘটনা হিসেবে কেউ দাবি করেনি। প্রতিটি আন্দোলনই নিজ নিজ প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মূল ভিত্তি এবং এটি নিয়ে কোনো প্রকার বিতর্কের অবকাশ নেই। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বারবার তুলনা টানার প্রবণতাকে তিনি সমালোচনা করে বলেন, এমন আচরণের মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—উভয় ঐতিহাসিক অর্জনকেই ছোট করছেন।