বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ময়মনসিংহে বিএনপির কার্যালয় খোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১

ময়মনসিংহের ভালুকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ছেলের গুলিতে বাবা খোকা মিয়া (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জমিরদিয়া এলাকার নারিশ কোম্পানির গেটের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত খোকা মিয়া স্থানীয় জমিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

ময়মনসিংহে বিএনপির কার্যালয় খোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ছেলের গুলিতে বাবা খোকা মিয়া (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জমিরদিয়া এলাকার নারিশ কোম্পানির গেটের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত খোকা মিয়া স্থানীয় জমিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বাবা খোকা মিয়া ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর অনুসারী। অন্যদিকে, ছেলে রানা মিয়া অবস্থান নিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে। নির্বাচনের সময় থেকেই এই রাজনৈতিক মতভেদ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও উত্তেজনা চলে আসছিল।

ঘটনার দিন দুপুরে নির্বাচনের পর থেকে বন্ধ থাকা নারিশের মোড় এলাকার একটি রাজনৈতিক কার্যালয় পুনরায় খুলতে যান ছেলে রানা মিয়া। খবর পেয়ে বাবা খোকা মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে কার্যালয়টি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘাত চলাকালে রানা মিয়া তার বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। একই সাথে রানার সহযোগীরা খোকা মিয়ার সাথে থাকা অনুসারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা খোকা মিয়াসহ আহত দুইজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ খোকা মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। মমেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, খোকা মিয়ার শরীরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনী বিরোধের জেরে বাবা ও ছেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে খোকা মিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।