শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলা, ৩৭ শিক্ষার্থী নিখোঁজ

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা, যার পর থেকে অন্তত সাইত্রিশ জন শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান মিলছে না। গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলা, ৩৭ শিক্ষার্থী নিখোঁজ
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা, যার পর থেকে অন্তত সাইত্রিশ জন শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান মিলছে না। গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের সশস্ত্র সদস্যরা বোরনো রাজ্যের লাসা শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই অতর্কিত হামলা চালায়। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলটিতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়টিতে এই তাণ্ডব চালানো হয়। বর্বরোচিত এই হামলায় প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে এক সেনাসদস্য এবং এক শিক্ষকসহ মোট তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দশজনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনও অনেক শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলর ইজাগলা ইজাবিলা নিখোঁজদের একটি বিস্তারিত তালিকা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেছেন, যার সত্যতা মিলেছে একটি গোয়েন্দা সূত্র থেকেও।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বোরনো রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লাওয়ান আব্বা ওয়াকিলবের বক্তব্য তুলে ধরে জানিয়েছে, অপহৃতদের মধ্যে পঁচিশ জন ছাত্রী, এগারো জন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন, যারা বর্তমানে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীর জিম্মায় আছেন।

তবে আক্রমণের শিকার হওয়া বিদ্যালয়টির উপাধ্যক্ষসহ আটজনকে ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, নাইজেরিয়ার সহিংসতা কবলিত উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা এখন সন্ত্রাসী দলগুলোর নিয়মিত উপায়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায়শই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা হয়।

দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে গণ-অপহরণের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৪ সালে চিবোক শহর থেকে শত শত ছাত্রীকে বোকো হারাম কর্তৃক জিম্মি করার ঘটনাটি নাইজেরিয়ার ইতিহাসে অন্যতম একটি নৃশংস অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।

অতি সাম্প্রতিক সময়েও এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মে মাসে বোরনো রাজ্যের মুসা গ্রাম থেকে চল্লিশের বেশি শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যাদের আজ অবধি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই মাসে সাধারণত নিরাপদ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিম নাইজেরিয়ার ওয়ো রাজ্যের তিনটি ভিন্ন স্কুল থেকেও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অপহৃত হয়। মূলত ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ার সরকার এই সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনে লড়াই করে আসছে, মাঝের বছরগুলোতে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও গত বছর থেকে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা পুনরায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।