‘ঊর্ধ্বতন নির্দেশ’ অজুহাতে ভোলার এক নারী কর্মীকে গভীর রাতে আটকের ঘটনাকে আওয়ামী আমলের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এই মন্তব্য করেন। তিনি ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেবল ‘ঊর্ধ্বতন নির্দেশের’ কথা উল্লেখ করেছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। মোয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন নারীকে মাঝরাতে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত অমানবিক ও অনভিপ্রেত। এই ধরনের কর্মকাণ্ড অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জামায়াতের এই নেতা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত বিবি সাওদার তিন বছর বয়সী একটি বাকপ্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। মায়ের নিবিড় পরিচর্যা ছাড়া শিশুটির স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে একজন মাকে বন্দি করা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অগণতান্ত্রিক আচরণ বর্তমান সময়ের প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল অবিলম্বে বিবি সাওদার বিনাশর্তে মুক্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও মানবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।