ইরানে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর দীর্ঘদিনের আইনি বাধার অবসান ঘটেছে। বুধবার দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, এখন থেকে নারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে দুই চাকার যান চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এর মাধ্যমে দেশটিতে গত কয়েক দশকের আইনি অস্পষ্টতা ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান হলো।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানি আইনে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, কর্তৃপক্ষ তাদের লাইসেন্স প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হলেও আইনি সুরক্ষা পেতে নারীদের বেগ পেতে হতো। সম্প্রতি ইরানের মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সম্মতি দেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির ট্রাফিক পুলিশকে এখন থেকে নারী আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ নারীদের এই দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে নারীদের পোশাকবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীদের জনসমক্ষে চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর পোশাকবিধি মেনে চলতে হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী সেই বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মোটরবাইক বা স্কুটারে যাতায়াত শুরু করেছেন। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি মিলল, অন্যদিকে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নারীদের ক্ষোভ প্রশমনের একটি উদ্যোগ হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে।