গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মব সৃষ্টি, সংঘাত উসকে দেওয়া এবং সবচেয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত ব্যক্তি হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আখ্যায়িত করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন এই ছাত্রনেতা।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূলত একটি মব সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন। তবে সেখানে সাধারণ মানুষ তাঁর উদ্দেশ্যে ডিম নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানায়। এই সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা সাধারণ জনতার দিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের চেষ্টা চালায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে ছবি সংযুক্ত করে তিনি দাবি করেন, সেখানে উপস্থিত অস্ত্রধারী দুইজন মূলত ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে পাঞ্জাবি পরিহিত সিয়াম উদ্দিন তুর্য ঝিনাইদহের কোর্টপাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় জামায়াত নেতার ছেলে। অপরজন টি-শার্ট পরিহিত আশিক, যিনি কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা এবং শিবিরের নেতা হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনার পর অনতিবিলম্বে ওই দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান করানোর একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহে যান। জুমার নামাজের আগে শহরে পৌঁছে তিনি জেলা কালেক্টরেট মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে পেছন থেকে কিছু যুবক আকস্মিকভাবে ডিম নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এতে এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।