শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামশুভ্র গ্রেপ্তার

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে।

নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামশুভ্র গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে। শ্রম আইন অমান্য করার অভিযোগে আদালত থেকে ইস্যু করা একটি ওয়ারেন্ট বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে আজ বুধবার ভোরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এই শিল্পপতির অবস্থান নিশ্চিত করে গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকার ডি ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের ৫৪ নম্বর ভবনে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বনানী থানা পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানের একপর্যায়ে ভোররাতে তাকে ওই বাসস্থান থেকে নিজেদের জিম্মায় নিতে সক্ষম হয় পুলিশ।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ যখন ওই ভবনে অবস্থান নেয়, তখন সাজেদুল ইসলাম ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি নিজে থেকে বাইরে আসেননি এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে নানাভাবে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালান। একই সাথে এই অভিযানের সময় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং দেহরক্ষী সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অবশ্য পরোয়ানা কার্যকরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরির এমন চেষ্টা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ করতে হয়নি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল এবং সেই আইনি আদেশ মতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সাধারণত আদালতের দেওয়া পরোয়ানার কপিতে মূল অপরাধ বা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ থাকে না। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সকালেই তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে শ্রম আদালতের একটি রায় অবমাননা করার কারণে গত ৩ মে নাভানা গ্রুপের শীর্ষ মালিকপক্ষের চারজনসহ সর্বমোট আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন সংশ্লিষ্ট আদালত। সেই পরোয়ানার সূত্র ধরেই এই শীর্ষ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মুখোমুখি করা হলো।