মঙ্গলবার, 22 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জাতিসংঘে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘সত্য বলবেন’ নেতানিয়াহু

মামদানির মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনার জন্য লজ্জা, মি. মামদানি। আমাদের জনগণকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হামাসের সন্ত্রাসী দানবদের সমর্থন করার জন্য আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার জন্যও আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।”

জাতিসংঘে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘সত্য বলবেন’ নেতানিয়াহু

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘সত্য বলবেন’ বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিরও সমালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়,  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংক্ষিপ্ত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “আমি জাতিসংঘে যাচ্ছি। আমাদের বীর সেনাদের বিষয়ে আমি সত্য বলব। আর তোমার (মামদানি) বিষয়েও সত্য বলব।”

এর আগে গতকাল সোমবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেন। এর জবাবেই নেতানিয়াহু ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। এর আগে সেখানকার মেয়র মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করবেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, তাকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা তার নেই।

মামদানির মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনার জন্য লজ্জা, মি. মামদানি। আমাদের জনগণকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হামাসের সন্ত্রাসী দানবদের সমর্থন করার জন্য আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার জন্যও আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।”

মামদানির ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনার কারণে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন প্রতিপক্ষ তাকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিযোগ করেছেন। তবে মামদানি ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা করেছেন। তার বক্তব্য, ইসরায়েলের সমালোচনাকে ভুলভাবে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে চালানো হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। এ সময় আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

এর জবাবে ইসরায়েল আকাশ ও স্থলপথে সামরিক অভিযান শুরু করে। দেশটির দাবি, হামাসের সামরিক ও শাসনক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হিসাবে যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে আলাদা করে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, তারা হামাসের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং হামাস বেসামরিক মানুষদের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে।

রয়টার্সকে গত সপ্তাহে নেতানিয়াহুর মুখপাত্র দোরন স্পিলম্যান বলেন, নেতানিয়াহু এরই মধ্যে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় জাতিসংঘে বেশি বক্তব্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এবারও নেতানিয়াহু এমন একটি মঞ্চ ব্যবহার করে ‘সত্য তুলে ধরবেন’, যেখানে অনেক দেশ ইসরায়েল সম্পর্কে ‘ভুল বয়ান’ গ্রহণ করছে।

স্পিলম্যান বলেন, “ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশ্বের সামনে সত্য তুলে ধরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চগুলোর একটি এটি। এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি কাউকে ভয় পান না। মেয়র মামদানিকেও তিনি ভয় পান না।”