নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানা পুলিশ এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নারীসহ আটজন সক্রিয় সদস্যকে আইনের আওতায় এনেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
থানা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বিকেলে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার একটি মৎস্য খামার (ফিশারি) থেকে এই চক্রটিকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ১০টি আধুনিক স্মার্টফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পূর্বধলা উপজেলার শিবপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম, মো. শুভ, সাগর মিয়া, জুয়েল মিয়া, মাজিজুল, কাজল মিয়া, মেঘশিমুল গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবিব এবং কলমাকান্দা এলাকার বাসিন্দা মোছা. মনিরা আক্তার।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল দুপুরের দিকে শিবপুর গ্রামের ওই মৎস্য খামারে ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখানে মুঠোফোনের সাহায্যে আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার সময় এই সাতজন পুরুষ ও একজন নারীকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় পুলিশের আগমন টের পেয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই নারীসহ অন্তত ছয় থেকে সাতজন অপরাধী ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মুঠোফোনগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় শতাধিক আপত্তিকর ও পর্নো ভিডিও তাদের ডিভাইসে সংরক্ষিত রয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে এই সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের শনাক্ত করাসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।