শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নিজের বই বিক্রিতে সচিবের নির্দেশনা : তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

বিগত শাসনামলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন বর্তমান সচিবের নিজস্ব বই কেনার লিখিত ও অলিখিত নির্দেশনা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

নিজের বই বিক্রিতে সচিবের নির্দেশনা : তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

বিগত শাসনামলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন বর্তমান সচিবের নিজস্ব বই কেনার লিখিত ও অলিখিত নির্দেশনা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে যথাযথ প্রমাণ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন যে, একজন সচিব জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের শিক্ষা দপ্তরগুলোতে তাঁর নিজের লেখা বই কেনার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন, যা বর্তমান প্রশাসনের গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহদী আমিন স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযোগের সত্যতা থাকলে প্রশাসন অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, উপযুক্ত প্রমাণ মিললে ওই সচিবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

অপর এক প্রসঙ্গে মেট্রোরেলের পিলারের নিচে কোরবানির পশুর হাট বসার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সেখানে কোনো ধরনের হাট বসানোর অনুমতি বা ইজারা দেওয়া হয়নি। মূলত ঈদের সময় প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে বিক্রেতারা পশুর সুরক্ষা ও আশ্রয়ের জন্য সাময়িকভাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষ যেভাবে গ্যারেজ বা ভবনের নিচে আশ্রয় নেয়, ঠিক সেভাবেই গরুর সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিক্রেতারা সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সরকার কাজ করবে।

মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন প্রশাসনের অধীনে এটিই ছিল প্রথম কোরবানির ঈদ। এই ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য আরও স্বচ্ছ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।