জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থানের মুখে নিষিদ্ধ হওয়া কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ রবিউল আলম।
তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট দলটির নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি পুরো জাতির কাছে অত্যন্ত পরিষ্কার। মূলত দেশের সাধারণ মানুষই তাদের বিতাড়িত করেছে। যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করে দেশের জনগণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষ এবং দেশের প্রচলিত আইন উভয় পক্ষই তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, তাই এই প্রসঙ্গে আলোচনা না করাই উত্তম।
মঙ্গলবার সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চর গলগলিয়া সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর ওপর তৈরি রেলসেতুর ঢাকা অংশের ভায়াডাক্টের নিচে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বর্জিত কোনো দল নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। অতীতে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্ব থাকলেও, জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার কারণে আজ তারা সমাজে পরিত্যক্ত ও সর্বস্তরে বর্জিত এবং সবশেষে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। ফলে তাদের চ্যাপ্টার এখন পুরোপুরি বন্ধ।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারি জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি সরকারি ভাবনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মালিকানাধীন পতিত জমিগুলো শনাক্ত করার কাজ চলছে। এক একরের কম-বেশি জমিগুলোকে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। যেসব স্থানে তিন একরের বেশি খালি জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এ ধরনের বড় জায়গাগুলোতে সোলার প্যানেল বসিয়ে প্রায় এক মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান তিনি। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট এলাকার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের মূল বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
উক্ত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ সরকারি, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।