দেশব্যাপী নৌ পুলিশের সাত দিনের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল, মাছ ও পোনা জব্দের পাশাপাশি ২৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মারুফা ইয়াসমিন এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। অভিযানে উদ্ধার করা মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে গত এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ তৎপরতা চালায় নৌ পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৩ হাজার ৫২৩ মিটার কারেন্ট ও নিষিদ্ধ জাল, ৪ হাজার ৫০১ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ৫৬ হাজার মাছের পোনা এবং ৩৫০ কেজি বিষাক্ত জেলীযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে ৩৭৩টি অবৈধ ঝোপঝাড় উচ্ছেদ করা হয়।
নৌ পথে চলাচলকারী যানের বৈধতা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ৯৫টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে এবং ৪টি ড্রেজার আটক করা হয়েছে। সাত দিনের এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২৮১ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মৎস্য রক্ষা আইন, বেপরোয়া গতি, বালুমহাল ও নদী দূষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে নদী থেকে ৫টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্যও জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
পুলিশ সুপার মারুফা ইয়াসমিন আরও জানান, জব্দ করা নিষিদ্ধ জাল ও জেলীযুক্ত চিংড়িগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা মাছের পোনাগুলো পুনরায় জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয় এবং খাবার যোগ্য মাছগুলো মানবসেবায় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।