বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ সংস্কারে দুই লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত মোগল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন মুসা খান মসজিদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারে দুই লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মঙ্গলবার সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই সংরক্ষণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় এই অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।

ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ সংস্কারে দুই লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত মোগল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন মুসা খান মসজিদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারে দুই লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মঙ্গলবার সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই সংরক্ষণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় এই অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিরা ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন এবং এর স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তার বক্তব্যে জানান, সপ্তদশ শতাব্দীর এই প্রাচীন স্থাপনাটি রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগটি একটি মাইলফলক। মার্কিন সরকারের এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, সংস্কারের পর মসজিদটি তার আদি স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক মর্যাদা ফিরে পাবে। তিনি মনে করেন, এই প্রকল্পের ফলে সাংস্কৃতিক পর্যটন ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং তরুণ প্রজন্ম ঐতিহ্য সংরক্ষণে আরও উৎসাহিত হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন জানান, গত বিশ বছর ধরে এএফসিপি তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করতে পেরে তারা গর্বিত। এটি বাংলাদেশে তাদের ১৩তম প্রকল্প। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, দুই লাখ ৩৫ হাজার ডলারের এই সহায়তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি পরামর্শও প্রদান করবে। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল অবকাঠামো সংস্কারই নয়, বরং দেশীয় প্রত্নতত্ত্ববিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের গবেষকদের সুবিধার্থে একটি ডিজিটাল আর্কাইভও তৈরি করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই যৌথ উদ্যোগটি একাডেমিক গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্বাস করেন, মুসা খান মসজিদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শেষে এটি জ্ঞান ও অনুপ্রেরণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

কার্জন হলের পাশে অবস্থিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য উদাহরণ। ধারণা করা হয়, এটি বারো ভূঁইয়া নেতা ঈসা খানের ছেলে মুসা খানের স্মরণে আঠারো শতকে নির্মিত হয়েছিল। উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত এই স্থাপনার নিচে খিলানযুক্ত কক্ষ রয়েছে, যা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দীর্ঘকাল অবহেলিত থাকার পর এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও থ্রিডি মডেলিং ব্যবহারের মাধ্যমে মসজিদটির কাঠামো মজবুত করা হবে এবং এর ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ নথিভুক্ত করা হবে।