জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া অনেক ব্যক্তি মূলত আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মানুষের ওপর নিপীড়নে অংশ নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি উল্লেখ করেন, আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এই ব্যক্তিদের অনেকে এখন নামসর্বস্ব বা ভুঁইফোড় গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করছেন। বর্তমান সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের নামে হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কার্যকালে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৯২ জন গণমাধ্যমকর্মী তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিবরণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন।
মামলাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই আইনি পদক্ষেপগুলোর পেছনে রাষ্ট্রপক্ষ জড়িত নয়, বরং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরেও অনেক মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের একটি বড় অংশের মূল পেশা সাংবাদিকতা ছিল না। তারা মূলত আওয়ামী লীগ কিংবা এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর নানাভাবে জুলুম চালিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষই তাদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো করেছে, তবে এখন তারা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের অভিজ্ঞতার আলোকেই বর্তমান প্রশাসন এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সম্প্রতি সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে একটি তালিকা দেওয়ার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সরকারপ্রধান নিজেও এমন একটি তালিকা আহ্বান করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি পেশা, যা সুনির্দিষ্ট নিয়ম, পেশাদারত্ব ও রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান মেনে পরিচালিত হয়। তবে বর্তমানে দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, যা দূর করতে একটি সর্বজনগ্রাহ্য নীতিমালা থাকা দরকার।
গণমাধ্যমের সার্বিক সংস্কারের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী জুনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের দিকে এই সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।