ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ২১টি অধ্যাদেশ বিল আকারে গৃহীত হয়েছে। একই অধিবেশনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্দেশ্যে রহিতকরণ বিলও কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। রাষ্ট্রপতি এসব বিলে অনুমোদন দিলেই তা পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
বৃহস্পতিবারের সংসদীয় অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ বিলগুলো উত্থাপন করেন। যেসব অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিল হিসেবে পাস হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, বাংলাদেশ শ্রম আইন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা), জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল। এছাড়াও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, টেলিযোগাযোগ, গ্যাস, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন এবং বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিষয়ক বিলগুলোও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অন্যদিকে, বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করার জন্য পৃথক বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ’, যেগুলোর পরিবর্তে রহিতকরণ বিল পাস হয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ বাতিল করে একটি পুনঃপ্রচলন বিলও অনুমোদন দিয়েছে সংসদ।
সরকারের এই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সংসদীয় বৈধতা পেল। তবে বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় আলোচনায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপট উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এই নতুন আইনগুলো অতি দ্রুত কার্যকর হবে।