ওমান সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের চেষ্টার অভিযোগে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘এমটি জলবীর’ নামের ওই তেল ট্যাংকারটি সমুদ্রের মাঝখানেই অচল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বুধবার স্থানীয় সময় রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে জাহাজটিকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও ক্রুরা তা অমান্য করে ইরানি বন্দরের দিকে এগোতে থাকেন। এর পরিপ্রক্ষিতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে দুটি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই ট্যাংকারটিতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে অগ্নিকাণ্ড ও তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হলেও ওমানি কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ক্রু সদস্যদের সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ওমানের শিনাস বন্দরে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান সাগরে ভারতীয় নাবিকসহ বাণিজ্যিক জাহাজে চলতি সপ্তাহে এটি তৃতীয় মার্কিন হামলার ঘটনা। এর আগে সোম ও মঙ্গলবার পালাউয়ের পতাকাবাহী আরও দুটি জাহাজকে একইভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে একটি হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে।
সামরিক সূত্রে জানা যায়, এই অভিযানে ব্যবহৃত ‘এজিএম-১১৪’ বা হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত ড্রোন এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার থেকে লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা হয়। অপারেটর ককপিট থেকে লেজার রশ্মির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেন এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বিন্দুতে আঘাত হানে। প্রায় আট কিলোমিটার দূরের গতিশীল লক্ষ্যবস্তুও এটি নিমেষেই অচল করে দিতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় মোট ৯টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে বিকল করেছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, এই সময়ে প্রায় ১৩৫টি জাহাজকে নির্দেশনা মেনে অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মানবিক সহায়তাসম্পন্ন ৪২টি জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর অবরোধ কার্যকর রেখেছে।