শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, সরকারপ্রধান ইকোনমিক ফোরামের এই বিশেষ আসরে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানে সমবেত হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে পারস্পরিক মতবিনিময় করছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি, সরকার প্রদত্ত নানাবিধ নীতিগত সুযোগ-সুবিধা এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি ও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করার সুযোগ পাবেন।

এবারের আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন বা ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল। বৈশ্বিক এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের কোনো সম্মেলনে এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সেই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কর ছাড় বা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ ভাগ নবায়নযোগ্য বিভিন্ন উৎস থেকে নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আলোইস জভিংগি মন্তব্য করেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়নমুখী এই উদ্যোগগুলো বিশ্ববাজারের বড় বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ফোরামের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালের শেষভাগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আগামীতে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মূল বার্ষিক সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানান।