দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিজ্ঞতাই মানুষের মনে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনাও চোখে পড়ার মতো।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে নির্বাচন প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “বিগত ১৫ বছরের কারচুপি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণেই মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে আমরা নির্বাচনের প্রচারে লক্ষ্য করেছি ব্যপকভাবে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ উদ্দীপনাও কাজ করছে।” বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই আগ্রহকে তিনি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়ায় এবারের নির্বাচন তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে ব্যাপক কারচুপি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে মানুষের মনে এখনো প্রশ্ন ও সংশয় রয়ে গেছে—নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি না। তিনি বলেন, “এ প্রশ্ন তাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই আসছে যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটা ঠিকঠাকভাবে হবে কিনা।” তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি জানান, শুরুতে দু-একটি ঘটনার পর সবাই সংযত হয়েছে এবং সামগ্রিক পরিবেশ এখন ভালো বলেই মনে হচ্ছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলপ্রসূ কিছু করা সম্ভব হবে না।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “এই নির্বাচনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, রাষ্ট্র ও সমাজের সবক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চ্চা নতুন করে শুরু হবে।”
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তার সফর ও বার্তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এগুলো বিএনপির রাজনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা প্রচারণা কোনো কাজে আসবে না। মানুষের ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা বোকা নন এবং সচেতনভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যারা ইতিবাচক রাজনীতি করি তারা জনসাধারণের মধ্যে ঘুরে ঘুরে এই প্রচার করেছি যে আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, এটা আপনার অধিকার তবে, হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে দল বেঁধে ভোট দিতে যান।” প্রশাসনও একই বার্তা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, আল মামুন, তারিখ আদনানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।