বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা অস্কারের মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। শুক্রবার এক বিশেষ ঘোষণায় সংস্থাটি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, অস্কারের মনোনয়ন পেতে হলে চলচ্চিত্রের অভিনয় ও চিত্রনাট্যের মূলে অবশ্যই মানুষের প্রত্যক্ষ মেধা ও সৃজনশীল শ্রম থাকতে হবে।
চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা মাথায় রেখে অ্যাকাডেমি তাদের নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, কোনো অভিনয়কে অস্কারের জন্য যোগ্য হিসেবে গণ্য হতে হলে তা অবশ্যই মানুষের মাধ্যমে সম্পাদিত হতে হবে। অর্থাৎ, কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো ডিজিটাল চরিত্র বা এআই নিয়ন্ত্রিত ভার্চুয়াল অভিনেতা অভিনয়ের কোনো বিভাগেই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না। একইভাবে, সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা সংলাপ অবশ্যই মানুষের লেখা হতে হবে; এআই-এর মাধ্যমে তৈরি কোনো কাহিনী বা সংলাপ মৌলিক কিংবা অভিযোজিত চিত্রনাট্য বিভাগে অযোগ্য বলে গণ্য হবে।
সম্প্রতি রুপালি পর্দায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন কঠোর অবস্থানে গেল অ্যাকাডেমি। বিশেষ করে গত বছর প্রয়াত অভিনেতা ভ্যাল কিলমারের ডিজিটাল সংস্করণকে একটি নতুন সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা এবং এলিন ভ্যান ডার ভেলডেনের কৃত্রিম অভিনেতা তৈরির বিষয়টি এ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। অ্যাকাডেমির এই আইনি পদক্ষেপ মূলত মানুষের দীর্ঘদিনের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে প্রযুক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার একটি ঢাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অবশ্য সিনেমার সব ক্ষেত্রেই এআই নিষিদ্ধ করা হয়নি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস কিংবা সম্পাদনার মতো কারিগরি কাজে এআই ব্যবহার করলে তা মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে অ্যাকাডেমি স্পষ্ট করেছে যে, এসব প্রযুক্তিগত সহায়তা কোনো ছবির জেতার সম্ভাবনা বাড়াবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচারকরা যাচাই করবেন যে, চূড়ান্ত নির্মাণে মানুষের সৃজনশীল অংশগ্রহণ ঠিক কতটা ছিল।
পুরস্কারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অ্যাকাডেমি আরও জানিয়েছে যে, যদি কোনো সিনেমার নির্মাণশৈলী নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তবে কর্তৃপক্ষ সেই সিনেমার পেছনের কারিগরি তথ্য এবং মানুষের অবদানের প্রমাণাদি তলব করার ক্ষমতা রাখবে। নব্বইয়ের দশক থেকে সিজিআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও তা মানুষের দ্বারা পরিচালিত একটি কষ্টসাধ্য কাজ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্রেফ একটি নির্দেশনার মাধ্যমেই মানুষের সৃজনশীল সত্তাকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম, যা চলচ্চিত্রের মৌলিক সংজ্ঞার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই অভিভাবক সংস্থা।