পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর চালানো অভিযান শেষ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় পুলিশ বিভাগ (সিপিও)। এ অভিযানে আট জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সিপিও।
সিপিওর বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ওই আট জঙ্গি নিহত হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত সবাই পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্য।
এর আগে শুক্রবার খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট শহরে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। ভয়াবহ ওই হামলায় ৩১ জন নিহত এবং আরও ১০৩ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা ছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, জুমার নামাজ চলার সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে হামলাকারী কোহাটের পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দেয়। এরপরই সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মসজিদের একটি অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ছয়জন হামলাকারী নিহত হন।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে এর দায় স্বীকার করে টিটিপি।
খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জুলফিকার হামিদ জিও নিউজকে জানান, অভিযানে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি এলিট ফোর্সের কমান্ডো ও কাউন্টার টেররিজম বিভাগের একাধিক পুলিশ দল অংশ নেয়।
আইজিপি হামিদ বলেন, মসজিদে হামলার স্থানটি কোহাট জেলা আদালতের প্রধান ফটকের খুব কাছাকাছি। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে দেশজুড়ে পুলিশ লাইনের আশপাশের দপ্তর ও জেলা আদালতগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোহাট জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথে পুলিশ চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। কোহাটে প্রবেশকারী ও শহর থেকে বের হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্র: জিও নিউজ