পাবনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই হামলার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ রবিবার সকালে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে সমাবেশ করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছে জেলা বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পাবনা-৫ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি রমজান আলীকে হুমকি দিচ্ছিলেন। সেই হুমকি উপেক্ষা করে প্রচার চালিয়ে যাওয়ায় গত শনিবার রাতে একটি মসজিদ থেকে তাকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াতের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতা রায়হানের নেতৃত্বে এবং দলের শীর্ষ নেতাদের স্বজনদের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।
তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি পারিবারিক বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে ফায়দা হাসিলের জন্য জামায়াত এই ঘটনায় বিএনপির নাম জড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। প্রতিবাদের নামে বিএনপি প্রার্থীর প্রচার সামগ্রী ভাঙচুরেরও অভিযোগ করেন তিনি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।