পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি পুলিশ নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধে অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা নিরাপত্তা বাহিনীর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বান্নু জেলায় গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ খান জানান, এক আত্মঘাতী হামলাকারী ও তার সহযোগীরা বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে নিরাপত্তা চৌকির একদম কাছে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। শক্তিশালী এই বিস্ফোরণের পরপরই আরও কয়েকটি ধামাকার শব্দ পাওয়া যায়, যার প্রভাবে পুরো নিরাপত্তা পোস্টটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, এই হামলায় শুধু নিরাপত্তা বাহিনীই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী বেসামরিক এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনে যখন পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসছিলেন, তখন ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে এবং চিরুনি অভিযান চলছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা এবার প্রথাগত কৌশলের বাইরে ড্রোন ব্যবহার করেও নজরদারি বা আক্রমণ চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই বান্নু জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় গ্রহণ করেনি। তবে আফগান সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় এমন পরিকল্পিত হামলা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।