সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পাকিস্তানকে ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই চুক্তির আওতাভুক্ত এলাকা নিয়ে তেহরান ও তেল আবিবের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বিষয়টি এখন বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে। ইরান দাবি করছে যে লেবাননও এই চুক্তির অংশ, তবে ইসরায়েল সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে লেবানন সীমান্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে যেকোনো সময় যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানকে ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই চুক্তির আওতাভুক্ত এলাকা নিয়ে তেহরান ও তেল আবিবের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বিষয়টি এখন বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে। ইরান দাবি করছে যে লেবাননও এই চুক্তির অংশ, তবে ইসরায়েল সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে লেবানন সীমান্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে যেকোনো সময় যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পেছনে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখালেও তার প্রশাসন পর্দার আড়ালে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ইরানের অপ্রত্যাশিত সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

টানা ৩৯ দিন ধরে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেটি পুনরায় সচল করা ওয়াশিংটনের জন্য জরুরি হয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

ফাইল্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই গোপন আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন একটি দল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বার্তার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তবে লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের কঠোর অনড় অবস্থান এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কতদূর টিকিয়ে রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।