জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, সাধারণ মানুষ বাইরে জ্বালানি তেল পাচ্ছে না, অথচ সংসদের ভেতরে তেলের ব্যাপক অপচয় করা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য জানান, গত রাতে তিনি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নিজের গাড়ির জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি বলেন, রাত ২টা পর্যন্ত রাস্তায় অপেক্ষার পরও তেল মেলেনি। অথচ সংসদের ভেতরে তেলের অপব্যবহার হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকা যাত্রাবাড়ীর জনদুর্ভোগের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পার হলেও এলাকাটি চরম অবহেলিত। সেখানকার বাসিন্দারা গ্যাস সংকটের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জরাজীর্ণ গ্যাস লাইনের ফলে দিনের খাবার রাতে রান্না করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সাধারণ মানুষকে বছরের বারো মাসই সেহরি খাওয়ার মতো করে মাঝরাতে খাবার তৈরি ও গ্রহণ করতে হচ্ছে।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধান সড়ক পর্যন্ত লিজ দিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে, যার ফলে যানজট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাসকে তিনি উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। একইসঙ্গে বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি নূরে আলম খাইরুলের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষা খাতের অসংগতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জনপ্রতিনিধি প্রশ্ন তোলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের বিপরীতে অতিরিক্ত জনবল কেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, উন্নয়ন কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক বিষয় নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘ ৮৫৩ দিন কারাবরণ এবং একাধিকবার কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা রুখতে তিনি গণভোটের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের সূত্র টেনে বলেন, বর্তমানে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করা হচ্ছে, যা কাম্য নয়।