শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে আজ শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং

দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে বাংলাদেশ আজ এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির জটিল ধাপগুলো পেরিয়ে অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করছে দেশ।

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে আজ শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং
ছবি: সংগৃহীত

দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে বাংলাদেশ আজ এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির জটিল ধাপগুলো পেরিয়ে অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করছে দেশ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রমের সূচনা হবে।

উদ্বোধনী আয়োজনে আসছেন রোসাটম প্রধান

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে বিশেষ বিমানে ঢাকায় আসছেন। সরকারি সূত্রমতে, সকালে ঢাকায় পৌঁছে তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারে করে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যাবেন। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

গ্রিডে বিদ্যুৎ আসার সময়সীমা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এই মহাযজ্ঞের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে জানিয়েছেন. ‘প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে ৪৫ দিন সময় লাগবে। জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।’

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতেই প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর গাইডলাইন ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ। গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পায় প্রকল্পটি। শুধু অবকাঠামো নয়, এই কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনার ‘অপারেটিং লাইসেন্স’ অর্জন করেছেন।

এক নজরে রূপপুর প্রকল্প

মোট ব্যয়: ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায়)।

প্রযুক্তি: অত্যাধুনিক রুশ ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: দুটি ইউনিট মিলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট।

প্রভাব: দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি এখান থেকে মেটানো সম্ভব হবে।

পদ্মা পাড়ের এই মেগাপ্রকল্পটি চালু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।