শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান

আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্তমান পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্তমান পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে তিনি জানান, গ্যাবার্ডের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন বর্তমান উপ-পরিচালক অ্যারন লুকাস।

সাবেক এই নারী সেনা কর্মকর্তা এক সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০২২ সালে তিনি সেই দলের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে রিপাবলিকান শিবিরে যোগ দেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজের ক্ষমতা গ্রহণের পর তুলসী গ্যাবার্ডকে দেশের পুরো গোয়েন্দা ব্যবস্থার দেখভালের শীর্ষ দায়িত্ব প্রদান করেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টিতে থাকাকালীন সময়েও তিনি নিজের স্পষ্ট অবস্থানের জন্য বেশ পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন এবং ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের শুরুর দিকে তৎকালীন জো বাইডেন সরকারের যুদ্ধকালীন কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এই নেত্রী। তৎকালীন সময়ে একটি সামাজিক মাধ্যমে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বাইডেন প্রশাসন ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো যদি মস্কোর যৌক্তিক নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতো, তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সহজেই এড়ানো সম্ভব হতো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক বিষয়ে হোয়াইট হাউজের নীতিগত সিদ্ধান্তের সাথে গ্যাবার্ডের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক মার্কিন ভূখণ্ডে ধরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক অভিযানের ব্যাপারে তার জোরালো আপত্তি ছিল। এসব কৌশলগত দ্বিমতের জের ধরেই শেষ পর্যন্ত তিনি গোয়েন্দা প্রধানের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।