শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পোকার আক্রমণে দেশে ১২ শতাংশ ধান বীজের ক্ষতি

বাংলাদেশে মজুতকৃত ধানের ৭ থেকে ১২ শতাংশই নষ্ট হচ্ছে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণে। শস্য সংগ্রহের পরবর্তী এই লোকসান কেবল খাদ্যের অপচয় নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত শ্রম, ভূমি, সেচ ও সারের মতো মূল্যবান সম্পদেরও অপচয়।

পোকার আক্রমণে দেশে ১২ শতাংশ ধান বীজের ক্ষতি
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে মজুতকৃত ধানের ৭ থেকে ১২ শতাংশই নষ্ট হচ্ছে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণে। শস্য সংগ্রহের পরবর্তী এই লোকসান কেবল খাদ্যের অপচয় নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত শ্রম, ভূমি, সেচ ও সারের মতো মূল্যবান সম্পদেরও অপচয়।

বুধবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল অনুষদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। ‘সংরক্ষিত ধানে ফসল-পরবর্তী ক্ষতি হ্রাসের জন্য স্মার্ট আল্ট্রাসনিক কীট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ দশমিক ৮৩ লাখ টন ধান বীজের প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই বীজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে অঙ্কুরোদগমের হার অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে বার্ষিক প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন বীজের সাশ্রয় হবে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা দমনের এই নতুন পদ্ধতিটি ধানের গুণমান রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়া বিএইউআরআইসির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়ালসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সভায় অংশ নেন। বক্তারা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন বীজের অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।