শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রাণঘাতী ইবোলায় বিপর্যস্ত কঙ্গো, ৬৫ জনের মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে মহামারি রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস।

প্রাণঘাতী ইবোলায় বিপর্যস্ত কঙ্গো, ৬৫ জনের মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে মহামারি রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস।

মহাদেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা আফ্রিকা সিডিসি শুক্রবার এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ২৪৬ জন নাগরিকের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে এবং এর মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৫ জন। মূলত স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ অঞ্চল মোংওয়ালু এবং রুয়াম্পারা শহরকে এই সংক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিনশাসায় অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চে পরীক্ষামূলকভাবে পাঠানো ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টির ফলাফলই পজিটিভ এসেছে। বর্তমানে ল্যাবরেটরিতে ভাইরাসটির সুনির্দিষ্ট স্ট্রেইন বা ধরন নিশ্চিত হতে আরও গভীর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এর মধ্যেই ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও বেশ কিছু সম্ভাব্য রোগীর সন্ধান পাওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলগুলোতে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সাথে একটি জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে আফ্রিকা সিডিসি। আক্রান্ত খনি অঞ্চলের শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অবাধ যাতায়াতের কারণে এই ভাইরাসটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. জাঁ কাসেয়া সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন।

ভৌগোলিক ইতিহাসে ১৯৭৬ সালে এই কঙ্গো ভূখণ্ডেই পৃথিবীর প্রথম ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। সাধারণত মানবদেহের তরল পদার্থ কিংবা সরাসরি শরীরের ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এই রোগ দ্রুত ছড়ায়, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র রক্তক্ষরণসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইবোলায় আক্রান্তদের গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এখনো পর্যন্ত এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে ১৭তম প্রাদুর্ভাব, এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যকার ভয়াবহ সংক্রমণে দেশটিতে প্রায় ২৩০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। বর্তমানে ইতুরি প্রদেশটি সামরিক প্রশাসনের অধীনে থাকা এবং সেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় অবস্থানের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে জরুরি উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।