বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রচারণা শেষ, ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ ভোটের অপেক্ষা

১২ ফেব্রুয়ারি—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এদিন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নাগরিকদের মত প্রকাশ ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ভোট মানে কেবল সরকার গঠন নয়; এটি আস্থা, অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রয়োগের প্রতীক।

প্রচারণা শেষ, ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ ভোটের অপেক্ষা

১২ ফেব্রুয়ারি—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এদিন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নাগরিকদের মত প্রকাশ ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ভোট মানে কেবল সরকার গঠন নয়; এটি আস্থা, অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রয়োগের প্রতীক।

তফসিল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা সামনে এসেছে। রাজনৈতিক উত্তাপ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও সংঘর্ষ আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার নতুন কিছু নয়। তবে ইতিবাচক দিক হলো, এবারের নির্বাচনী আবহ তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। সব আসনে প্রার্থীরা প্রচারণায় অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন। প্রচারপর্ব শেষ হওয়ায় এখন সবার নজর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের দিকে।

এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয়—দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত সহিংসতার বদলে শান্তিকেই প্রাধান্য দিতে চায়। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি এখানেই। উত্তেজনা থাকলেও নাগরিকরা সংঘাতের পরিবর্তে ব্যালটকে বেছে নিতে আগ্রহী। তবে কেবল আশাবাদ যথেষ্ট নয়। অভিজ্ঞতা বলে, শান্ত পরিবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না; তা নিশ্চিত করতে হয়। এ দায়িত্ব যেমন নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও।

প্রথমত, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। নির্বাচন কোনো সংঘাত নয়, এটি নীতিগত প্রতিযোগিতা। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু প্রতিপক্ষকে শত্রু ভাবার প্রবণতা থেকে সরে আসা জরুরি। উসকানিমূলক বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে। নেতৃত্বের দায়িত্বশীল বার্তা মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শান্তির আহ্বান জোরালোভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকেই আসা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। ভোটের সময় নাগরিকদের প্রধান প্রত্যাশা নিরাপত্তা ও আস্থা। ভোটার যদি ভীত থাকেন, তবে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু উপস্থিতি নয়, আচরণেও নিরপেক্ষতা ও মানবিকতা গুরুত্বপূর্ণ। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। বরং দ্রুত ও সমান আইনি প্রয়োগের দৃশ্যমানতা সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তৃতীয়ত, নাগরিকদের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র কেবল রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়; সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণও অপরিহার্য। গুজব ও অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ—এসবই বড় ধরনের অস্থিরতা ঠেকাতে সহায়ক। সহিংসতার প্রধান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ—এই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। টেকসই সমাধান আসে সংলাপ, সহনশীলতা ও ভোটের মাধ্যমে; সংঘাত দিয়ে নয়।

এবারের নির্বাচন ও গণভোট তাই দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখানো সম্ভব—বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে এগোচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন করা যায়, তবে তা রাজনৈতিক ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

১২ ফেব্রুয়ারি কেবল ভোটগ্রহণের দিন নয়; এটি আস্থারও পরীক্ষা—রাষ্ট্রের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রতি। সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণই পারে এই নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের স্থিতিশীল ও আশাবাদী ভবিষ্যতের পথে মাইলফলক করে তুলতে। শান্তিপূর্ণ ভোটই হোক সবার অঙ্গীকার।