শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী’র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন ৩ বস্তির মানুষ

দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার নিম্নআয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী’র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন ৩ বস্তির মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার নিম্নআয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

বিশেষ সুযোগ-সুবিধার আওতায় এই হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় সব ধরণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ পুরোপুরি বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।


'স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার' এই মূলনীতিকে সামনে রেখে চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যেখানে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) উন্নত সেবার দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণ সহজ করতে হাসপাতালে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য স্বতন্ত্র টিকিট কাউন্টার এবং অষ্টম তলায় নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক দুটি ওয়ার্ড নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র ও শীর্ষ পরিচালকের দেয়া তথ্যমতে, সেবা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বহির্বিভাগে ৬ শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে কয়েকজনের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের জরুরি শল্যচিকিৎসার প্রস্তুতি চলছে।

চলতি বছরের মে মাসের শুরুর দিকে হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক আইসিইউ ইউনিট, বিশেষায়িত প্যাথলজি কেন্দ্র ও গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগের উদ্বোধনকালে বস্তিবাসী মানুষের জন্য বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। মূলত নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ হিসেবে প্রান্তিক নাগরিকদের জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হাসপাতাল চত্বরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিখরচায় এমন উচ্চমানের চিকিৎসা পাওয়ায় দীর্ঘদিনের আর্থিক চিন্তা থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছেন তারা। অতীতে অর্থাভাবে যারা নামি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারতেন না, তারা এখন নিখরচায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, রোগ নির্ণয় ও ওষুধ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। ভাসানটেক এলাকা থেকে আসা আমেনা বেগম জানান, পূর্বে এক চোখের চিকিৎসার জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে হলেও বর্তমানে অপর চোখের ছানি অপারেশন তিনি সম্পূর্ণ বিনা খরচে করাচ্ছেন।

কড়াইল এলাকার অধিবাসী কামরুল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিশ্রুত সুবিধা এখন সরাসরি হাতে পাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে অত্যন্ত সম্মানজনক পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা জানান, ক্যান্সার কিংবা হৃদরোগের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করতেও এসব বাসিন্দাদের আলাদা কোনো অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না। কেবল ১০ টাকার প্রাথমিক টিকিট সংগ্রহ করলেই বাকি সকল চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। প্রকৃত সেবাগ্রহীতাদের সঠিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি রোগীর সাথে কোনো স্বজন না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই নিজ দায়িত্বে রোগীর সার্বিক সেবার তদারকি করছেন।