শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পরমাণুকেন্দ্রে হামলা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের দারখোভিন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে চরম 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা।

পরমাণুকেন্দ্রে হামলা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের দারখোভিন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে চরম 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা। এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে, আক্রান্ত ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং তারা ইতিমধ্যে এই হামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, একটি পারমাণবিক স্থাপনার ওপর এই ধরনের সামরিক আক্রমণ পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। বৈশ্বিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বভাব।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, ওই বিজ্ঞপ্তিতে ইরান দাবি করেছে, নিপীড়ক ও আইন অমান্যকারী মার্কিন প্রশাসন আন্তর্জাতিক সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে এই বর্বরোচিত ও চরম আক্রমণাত্মক হামলা পরিচালনা করেছে, যা একটি স্পষ্ট অপরাধ।

ইরান এই ঘটনাকে বৈশ্বিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে একটি বর্বরোচিত আগ্রাসন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা শুরু হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন, তেহরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এই লক্ষ্য অর্জনের কথা পূর্বেও বারবার বলা হয়েছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেই গত শনিবার টানা অষ্টম রাতের মতো চালানো অভিযানে ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন ওই পরমাণু কেন্দ্রে বোমা হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতের এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করে দেওয়া এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবহরের ওপর হামলার জের ধরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) সমুচিত শিক্ষা দেওয়া।

অন্য দিকে, ওয়াশিংটনের এমন আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও মারাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও এর সশস্ত্র বাহিনীর ওপর যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসন বা বর্বরোচিত পদক্ষেপের বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন এক বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।