ওয়ানডে সিরিজের সাফল্যের পর টি-টোয়েন্টিতেও জয়ের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে না পারায় সেই আশা পূরণ হলো না। কুপার কনলির ঝড়ো ইনিংসে সহজ জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল অস্ট্রেলিয়া।
বুধবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী দল। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি স্বাগতিকরা। মূল ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও শেখ মেহেদীর ২৯ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ১৩১ রানের পুঁজি পায়।
জবাবে কুপার কনলির ২৭ বলে ৪৭ রানের কার্যকর ইনিংসে ১০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করল তারা।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামের উইকেটে বল কিছুটা থেমে আসছিল এবং ব্যাটারদের জন্য রান করা সহজ ছিল না। শরিফুল ইসলামের বলে রিভার্স স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন জশ ইংলিশ।
এরপর ওয়ানডে সিরিজে না থাকা মিচেল মার্শও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এই ব্যাটার।
৩৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন কনলি। দ্রুত রান তুলে তিনি চাপ কমিয়ে আনেন। টিম ডেভিডের সঙ্গে তার জুটি অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের পথে এগিয়ে নেয়। অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কনলি, তখন তিনি ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
এরপর টিম ডেভিডও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তবে শেখ মেহেদীর বলে ১৬ বলে ২০ রান করে তার বিদায় হয়। অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরী রেনশর সঙ্গে ছোট জুটি গড়লেও রিশাদ হোসেনের বলে আউট হন। তখন অবশ্য জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
রেনশ শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ করে যেতে পারেননি। জয়ের জন্য মাত্র ৩ রান প্রয়োজন থাকা অবস্থায় ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। পরে জেভিয়ার বার্টলেট বাউন্ডারি মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসকে ছাড়া খেলতে নামা দল শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। দুই ওপেনার মিলে ২৬ রান যোগ করার পর শুরু হয় উইকেট পতন। একপর্যায়ে ৮৬ রানে ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
শেষ দিকে শেখ মেহেদীর লড়াকু ২৯ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছায় এবং কিছুটা লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করে।