বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইউক্রেন

ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে এবং রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে বাধ্য করতে নজিরবিহীন এক আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামনে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্রে নির্মূল করা।

প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইউক্রেন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফাইল ছবি

ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে এবং রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে বাধ্য করতে নজিরবিহীন এক আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামনে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্রে নির্মূল করা।

সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জেলেনস্কি জানান, এখন থেকে ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর মূল লক্ষ্য হবে এই নির্ধারিত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অর্জন করা।

জেলেনস্কির কৌশলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা নিয়োগের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া, যাতে ক্রেমলিন জনবল সংকটে পড়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মতে, যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতায় বিজয় নিশ্চিত করতে শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতির এই ‘সেরা মাত্রা’ অর্জন করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের শেষ দিকে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলেনস্কির দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে। তবে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনো এই সংখ্যার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। জেলেনস্কির মতে, ড্রোন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ছাড়া এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

বর্তমানে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে ড্রোন বিশেষজ্ঞ মিখাইলো ফেদোরভকে নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সেনাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শত্রুপক্ষকে আরও নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সরকার বিশেষ ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ ও বড় অংকের আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও চালু করেছে। ড্রোনের উদ্ভাবন ও উৎপাদন দ্রুত বাড়িয়ে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামানোই এখন কিয়েভের প্রধান সামরিক দর্শন। তবে ইউক্রেনের এই প্রস্তুতির বিপরীতে রাশিয়া বেসামরিক এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে একের পর এক হামলায় কিয়েভসহ বড় শহরগুলোর লাখ লাখ মানুষ তীব্র শীতের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কঠিন সময় পার করছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক সংকট বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও চাপের মধ্যেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কেবল ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় আর নেই।

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার আগ্রাসন চিরতরে থামাতে ইউক্রেনকে নিজস্ব শক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নতুন এই রণকৌশল যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা