একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নানামুখী প্রগতিশীল ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক মর্যাদা এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
গত রবিবার রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশের ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক ধারাকে সম্পৃক্ত রাখাই তাদের প্রধান আদর্শ, যেখানে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, বিগত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস এ দেশের চরম সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় শিশুদের লালন-পালন এবং বিপন্ন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পিতৃ-মাতৃহীন ও অভিভাবকহীন শিশুদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে এই শিশু পল্লীর ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিবারভিত্তিক নিবিড় যত্ন এবং শিশু সুরক্ষায় সংস্থাটির এই দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল অবদানকে রাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির আসন থেকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, একটি আদর্শ যৌথ পরিবারের বাইরেও যে পরম মমত্ববোধ, স্নেহ ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে শিশুদের সুন্দরভাবে বড় করে তোলা সম্ভব, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস তারই একটি বাস্তব রূপ।
প্রতিমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও প্রান্তিক শিশুদের জন্য যদি একটি মজবুত ও সুরক্ষিত ভিত্তি গড়ে তোলা না যায়, তবে প্রকৃত জাতীয় অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুবিধাবঞ্চিত তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী ও দেশের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই সংস্থাটি যে চমৎকার ও টেকসই সেবামূলক মডেল তৈরি করেছে, তা সত্যিই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
অনুষ্ঠানের অপর বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশজুড়ে অসহায় শিশু, কিশোর ও পরিবারের সেবা, যত্ন, অধিকার রক্ষা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করার ক্ষেত্রে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ সুদীর্ঘ ৫৫ বছরের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সম্পন্ন করেছে। অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এই মাইলফলক স্পর্শ করায় তিনি সংস্থাটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনগুলোতেও এই কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।