শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে বেরোবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার পদত্যাগের দাবিতে গভীর রাতে আন্দোলনে নেমেছেন হলের আবাসিক ছাত্রীরা। রবিবার

প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে বেরোবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার পদত্যাগের দাবিতে গভীর রাতে আন্দোলনে নেমেছেন হলের আবাসিক ছাত্রীরা। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হলের ভেতরের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ছাত্রীরা মিছিল সহকারে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের অভিযোগ, হলের ভেতরের বিভিন্ন সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো একের পর এক বিতর্কিত নোটিশ জারি করছেন হল প্রশাসন। অধিকাংশ সময় হলের ডাইনিং বন্ধ রাখা হয় এবং গণরুমে অবস্থানরত ছাত্রীদের জন্য মিল চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেক সময় সকালের খাবারের জন্য ছাত্রীদের চিঁড়ে-মুড়ি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, হলে পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত কোনো রিডিং রুম নেই। বর্তমান কক্ষটিতে তীব্র মশার উপদ্রব এবং নোংরা পরিবেশের কারণে বসার উপায় থাকে না। তদুপরি, পুরো কক্ষটিতে মাত্র তিনটি বেঞ্চ থাকায় আসন সংকটের কারণে সিংহভাগ শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করতে পারেন না। ছাত্রীদের দাবি, বারবার সংকটের কথা জানানো হলেও হল প্রশাসন তা আমলে না নিয়ে উল্টো ভোগান্তি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, ছাত্রীদের হলের কিছু সমস্যার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পরদিনই প্রশাসনিকভাবে হল পরিদর্শন করা হবে। একই সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সংকট দূর করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হলের ডাইনিং ও হিটার ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, হিটার এবং ডাইনিংয়ের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করা বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কঠিন হয়ে পড়েছে, যা সামঞ্জস্য করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ছাত্রীদের সুবিধার্থে হলে সবসময় উপস্থিত থাকবেন—এমন একজন প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়েও প্রশাসনিকভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। রিডিং রুমের দুরবস্থা দূর করতে প্রকৌশলীদের নিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে আবাসিক ছাত্রীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলোর যদি দ্রুত ও স্থায়ী কোনো সমাধান না আসে, তবে তারা আগামীতে আরও বড় ধরনের ও কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।