বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান দুই গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) এই দুই শক্তিশালী বাজারে পণ্য পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক খাত থেকে মোট ২৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয়ের পরিমাণ ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কম। প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদার এই নিম্নমুখী প্রবণতা নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই নেতিবাচক পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরাজমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা, দেশের অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তন এই ধসের মূল কারণ। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পোশাক শিল্পের মালিকরা নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছেন। তারা মনে করছেন, কেবল নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর নির্ভর না করে উৎপাদিত পোশাকে বৈচিত্র্য আনা এবং নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন ও সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে বের করার মাধ্যমে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন দেশের উদ্যোক্তারা।