কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ঐতিহাসিক ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার তিনি এই নতুন নীতিমালার কথা তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সীমানা পেরিয়ে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের জনমিতির ভারসাম্য ব্যাহত হচ্ছে, যা এখানকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, চৈতন্য মহাপ্রভু, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের এই পবিত্র মাটিতে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমানা পাহারা ও অবকাঠামোগত উন্নতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন করেছে সরকার। এছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার পর আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার বা অস্থায়ী কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। যারা বেআইনিভাবে প্রবেশ করে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জননিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আগত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শরণার্থী হিসেবে পূর্ণ নাগরিক সুবিধা পাবেন।
শহীদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শিক স্লোগান ‘এক দেশ, এক বিধান, এক প্রধান, এক নিশান’ ধারণ করেই বর্তমান প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে একজন কালজয়ী দূরদর্শী লেখক ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি আমাদের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের চিরন্তন সঞ্জীবনী শক্তি।
এবারই প্রথম সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় অবস্থিত বঙ্কিমচন্দ্রের পৈতৃক নিবাস এবং কলকাতার বাসভবনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এর আগে কলকাতার ওই ঐতিহাসিক বাসভবনটি অবহেলায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।