বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পুঠিয়ায় গণপিটুনিতে ‘ডাকাত’ নিহত, ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ডাকাত দলের এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কয়েক শ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুঠিয়ায় গণপিটুনিতে ‘ডাকাত’ নিহত, ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ডাকাত দলের এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কয়েক শ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

সোমবার পুঠিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এই মামলাটি করা হয়। একই ঘটনায় ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে পৃথক আরও একটি মামলা করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে গত রবিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পলাশি গ্রামে একদল ডাকাত হানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘিরে ফেলে। গ্রামবাসীর প্রতিরোধে ডাকাত দলের আট সদস্য ধরা পড়লে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন প্রাণ হারান এবং বাকি সাতজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে সোমবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ওই দলটি গ্রামে অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই গ্রামবাসী তাদের ধরে ফেলে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. শাহীন, যার বয়স ৫৫ বছর। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। গণপিটুনিতে আহত বাকি সাতজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন ঢাকা, রংপুর, টাঙ্গাইল ও জামালপুর থেকে এসে এই দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, অপরাধীরা একটি ট্রাকে করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেছিল। গ্রামবাসী তাদের আটক করার পর ব্যবহৃত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীনসহ আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে ওসি আরও জানান, ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদ একটি মামলা করেছেন, যেখানে চিকিৎসাধীন সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, শাহীনের মৃত্যুর ঘটনায় একই কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন, যাতে ২৫০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাত গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে। তবে এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিহত শাহীনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।