আটকের পর ৫৪ ধারায় তাদের আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার মিনি কক্সবাজার এলাকার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের বালুর মাঠ থেকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু গণমাধ্যমকে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ববর্তী একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিকের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। গোপন সোর্স ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠীর কিছু সদস্য সেখানে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন। খবর পেয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পালানোর চেষ্টা করার সময় এই ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
থানার প্রধান কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই মাঠে সমবেত হওয়ার পেছনে আটক যুবকেরা কোনো যৌক্তিক বা সন্তোষজনক কারণ দেখাতে পারেননি। সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, তারা কোনো উগ্রবাদী ভাবাদর্শ বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে এই গ্রেফতারের ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী দলের সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবকদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে দীক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ করার পেছনে কাজ করছিল ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ বা এফসিএস নামের একটি চক্র। ঢাকা মহানগর পুলিশ মূলত এই চক্রের প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকেই তাদের আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মার্শাল আর্টের মোড়কে মূলত উগ্রবাদী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় এবং সেখান থেকেই এই চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়।